
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহিংসতামুক্ত করতে নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নারী অধিকারকর্মী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নারীপক্ষ আয়োজিত 'জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ' প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় নেটওয়ার্কিং সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভাটি UN Women-এর সহযোগিতা এবং Norway-এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, বরং প্রার্থী, প্রচারক, নির্বাচনী ব্যবস্থাপক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, নারী ভোটার সমাবেশ এবং ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো যেতে পারে। পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবক ও প্রচারক দল গঠন করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক হয়রানি, সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নারীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় নারীর স্বাস্থ্য, মাতৃসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। এতে নারী ভোটারদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা, প্রথমবারের নারী ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং স্থানীয় নারী সংগঠন, যুব সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের সমান সুযোগ, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শুধু নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নই নয়, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, সুশাসন ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রও আরও সুসংহত হবে।