
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম জেলায় পৃথক তিনটি অভিযানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, তিন রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি হত্যা মামলায় ব্যবহৃত এলজি ও বড় ছোরা।

জেলা পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আলোচিত অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামি দিদার ও আফসারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং গুলি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ একটি হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর ব্যবহার সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে।
অন্যদিকে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া আলামত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
[video width="640" height="360" mp4="https://deshinvestigation.com/wp-content/uploads/2026/08/AQMUha09PnCq4qgDQhplIXLp_Iol8HJ0gXAseLBtFINGh-CPCKLPl4ROH_QuLiYrHETuXwE1ianlWPVa_VJoo0DQa2z47hHm2cGVU7g7Og.mp4"][/video]
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত আলোচিত অপরাধগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্তের কাজও চলছে।
তারা জানান, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
MD.RIMON AL FAHAD
Copyright © 2026 Desh Investigation. All rights reserved.