নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে আবারও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার আলোচনার সূত্রপাত ইংরেজি সাপ্তাহিক Weekly Blitz-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে ভারতের দুটি ধর্মীয় স্থানে সফর ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে পোস্টে উল্লিখিত দাবিগুলোর পক্ষে কোনো নথি, সরকারি ঘোষণা, ভ্রমণসূচি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে তথ্যগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী দাবি করেন, ভারতের একটি ‘অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের’ বরাতে তিনি জানতে পেরেছেন যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার আগে শেখ হাসিনা ভারতের আজমীর শরীফে হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে দিল্লিতে ফিরে হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (র.)-এর মাজার জিয়ারতের পর পশ্চিমা কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে রওনা হবেন।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিসেম্বরের আগেই ঘটতে পারে। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বাংলাদেশের ইংরেজি সাপ্তাহিক Weekly Blitz-এর সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে পরিচিত।
তাঁর কর্মজীবন নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। ২০০৩ সালে ইসরায়েল সফরের চেষ্টা এবং কথিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক মামলা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যম-স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন এসব মামলাকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরেছিল।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
তবে ওই সাক্ষাৎকার বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য সূত্রে আজমীর শরীফ সফর, দিল্লিতে হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার (র.) মাজার জিয়ারত, কিংবা পশ্চিমা কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল, তাঁর আইনজীবী, ভারত সরকার বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও ভাইরাল পোস্টে উল্লিখিত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
উচ্চ-প্রোফাইল রাজনৈতিক সফর বা দেশে ফেরার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সাংবাদিকতার স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী একাধিক স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্যের মিল থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর পোস্টে করা দাবিগুলোর ক্ষেত্রে এমন কোনো স্বাধীন সমর্থন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ফলে বর্তমানে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে ঘিরে পোস্টে উত্থাপিত নির্দিষ্ট কর্মসূচির দাবিগুলো অপ্রমাণিত (Unverified) হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য নিশ্চিত হলে এ মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে।