চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির অনুমোদনের বাইরে একটি কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে প্রচারিত বলে দাবি করা একটি রেজুলেশনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই রেজুলেশনে নিজেদের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির দুই সদস্য—মোহাম্মদ বাবলু ও অ্যাডভোকেট এস. এম. অহিদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পৃথক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে তারা অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি বা স্বাক্ষর ছাড়াই একটি রেজুলেশনে নাম যুক্ত করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ঘটনাটিকে তারা শুধু ব্যক্তিগত পরিচয় জালিয়াতি নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি ‘অগণতান্ত্রিক অপতৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অভিযোগকারী যুবলীগের নেতা দু-জনেই উত্তর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লায়ন এম মিজানুর রহমান এর বিশ্বস্ত ও রাজনৈতিক অনুসারী বলে জানা যায়।

লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ বাবলু দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে তিনি প্রথম জানতে পারেন যে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তিনি কখনো ওই নথিতে স্বাক্ষর করেননি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. অহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, শুধু স্বাক্ষরই নয়, রেজুলেশনে তার নামও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
দুই নেতাই অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়া নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি সাংগঠনিক উদ্যোগকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ বাবলু দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড একজন নেতার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তার ভাষ্য, অনুমোদনহীন কোনো উদ্যোগকে বৈধতা দিতে নেতাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলে তা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অ্যাডভোকেট এস. এম. অহিদুল্লাহও তার বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেন, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দুই নেতা পৃথকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
তারা বলেন, কারা তাদের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন তৈরি করেছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কখনো ছিলেন না, ভবিষ্যতেও থাকবেন না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রেজুলেশনে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সেটি কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয় নয়; বরং সাংগঠনিক বিশ্বাসযোগ্যতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার ওপরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষ পলাতক ও নাম্বার বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে। তবে জালিয়াতি করা স্বাক্ষরিত কমিটি প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন, স্বাক্ষরের সত্যতা কিংবা জালিয়াতির অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও অভিযোগকারীদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। 