চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের নানা অভিযোগে আলোচিত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে এবার অপরাধ দমনে আরও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসচেতনতামূলক সভা থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম বলেছেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান নেই। অপরাধচক্রের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের আওতায় তাকে আসতেই হবে।
তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম রেঞ্জ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পর্যায়ক্রমে রেঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অপরাধচক্রের গডফাদারদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “মাদকের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হবে। আইনের হাত থেকে কোনো অপরাধী রেহাই পাবে না।”
ডিআইজি আরও বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। জনগণ তথ্য দিলে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় বক্তব্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, জনসম্পৃক্ততাভিত্তিক পুলিশিংই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তাই সমাজের প্রতিটি মানুষকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দিন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে দ্রুত, কার্যকর ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সহযোগিতায় অপরাধবিরোধী চলমান কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভার শেষ পর্বে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গল সলিমপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই পুলিশের এ ধরনের জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।