• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
Headline
ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, হাটহাজারীতে গ্রেপ্তার ৭ সন্দ্বীপে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মাঠে রেঞ্জ ডিআইজি প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে সিএমপিতে বাড়তি সতর্কতা, মাঠে নিরাপত্তা সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে বাঁশখালী-হাটহাজারী: প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কেন দিনরাত মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি? প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক জেলা পুলিশ ‘প্রার্থী দেবে না’ থেকে ইউটার্ন জামায়াতের, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটে নতুন সমীকরণ ৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন জুলাইযোদ্ধাদের জীবিকার চাকা ঘোরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার, পেলেন সিএনজি-রিকশা এক সফরে উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রাজনীতি—চট্টগ্রামে তারেক রহমান

সরকারি অফিস নাকি আবাসিক বাসা? বিএমডিএ কার্যালয়ে রান্নাঘর, শয়নকক্ষ ও রাত্রিযাপনের অভিযোগে তোলপাড়

Reporter Name / ১২৪ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি অফিস নাকি আবাসিক বাসা? বিএমডিএ কার্যালয়ে রান্নাঘর, শয়নকক্ষ ও রাত্রিযাপনের অভিযোগে তোলপাড়

  • সরেজমিনে মিলল বিছানা

  • রান্নার সরঞ্জাম ও গৃহস্থালি সামগ্রী; নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান

  • কর্মচারীদের অফিসে থাকা ও সরকারি সম্পদের ব্যবহারে উঠছে প্রশ্ন— জনবল সংকটের ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের

লালমনিরহাট:বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ সরকারি দপ্তর। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই যেন বদলে যায় পুরো চিত্র। দাপ্তরিক টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি চোখে পড়ে বিছানা, রান্নার সরঞ্জাম, বাজারের ব্যাগ, গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, লালমনিরহাটে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) জেলা কার্যালয়ের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ব্যবস্থার মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া করা দুইতলা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে বিএমডিএর জেলা কার্যালয়। নিচতলার একটি কক্ষ সরকারি মালামাল সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে বিছানা, রান্নার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী রাখা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ওই কক্ষে একজন কর্মচারী নিয়মিত অবস্থান করেন।

দোতলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের পাশেই রয়েছে একটি সুসজ্জিত বিশ্রামকক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের বাইরে ওই কক্ষ রাত্রিযাপনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অফিসের ভেতরেই রান্নাবান্নার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

অফিসে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মী জানান, বৈঠক বা বিশেষ প্রয়োজনের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য নিয়মিত খাবার রান্না করতে হয়। প্রয়োজনে তিনি ওই ভবনেই বিশ্রাম নেন এবং রাত কাটান বলেও দাবি করেন।

অন্য এক কর্মচারীর ভাষ্য, আগে তিনি আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে অফিস ভবনেই থাকতে শুরু করেন। ব্যক্তিগতভাবে এতে আগ্রহী না হলেও দায়িত্বের কারণে সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস পাহারা ও অন্যান্য কাজের জন্য মাস্টাররোলভিত্তিক কয়েকজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তারা পালাক্রমে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মীর কয়েকজনও অফিস ভবনেই অবস্থান করেন।

সরকারি অফিস ভবনে এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক বিধিবিধি ও সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি দপ্তর কোনোভাবেই স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে না। এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লালমনিরহাট বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে অফিস পাহারার জন্য কয়েকজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা নয়। দূর-দূরান্ত থেকে কোনো কর্মকর্তা এলে বা গভীর রাত হয়ে গেলে বিশ্রামের জন্য কক্ষ ব্যবহার করা হয়। দুপুরে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার কারণে অফিসে রান্নার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অফিসের কক্ষ ও অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা