চট্টগ্রাম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাদের আদর্শ আগামী প্রজন্মকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি দেশের মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যয়ের প্রতীক। যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’-এর তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, গণমানুষের অংশগ্রহণ, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং দেশ পুনর্গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জাতির সংকটময় সময়ে যারা জীবন বাজি রেখে এগিয়ে এসেছেন, তাদের অবদান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, একটি জাতির অগ্রযাত্রায় আত্মত্যাগের ইতিহাস সবচেয়ে বড় শক্তি। জুলাইয়ের শহিদদের রক্ত এবং যোদ্ধাদের ত্যাগ দেশের মানুষের কাছে দায়িত্ববোধ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করা।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও উন্নয়নের অভিযাত্রায় এই চেতনা ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে।