আলিনগর বহুমুখী সমবায় সমিতির দাবি— ৯ মার্চের পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বা বিল আদায়ের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; ‘আমজাদ গং’-এর কমিটিই বিল সংগ্রহ করেছে, মিথ্যা প্রচারে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রাম: জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল এলাকার বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ ও বিপুল বকেয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন বক্তব্য দিয়েছে আলিনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের বিশেষ অভিযানের পর থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কিংবা বিল আদায়ের সঙ্গে তাদের বা তাদের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। বরং একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে আলিনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এসব দাবি করে এবং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে জনসাধারণকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ মার্চ প্রশাসনের বিশেষ অভিযানের পর থেকেই জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ অফিস পরিচালনা কিংবা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে আলিনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। একই সঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
সমিতির ভাষ্য, ৯ মার্চের পর বিদ্যুৎ অফিস কারা পরিচালনা করছেন, কারা বিল সংগ্রহ করছেন কিংবা কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে— সে বিষয়ে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
বিবৃতিতে বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, প্রশাসনের অভিযানের পর থেকে এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহক নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি। এর ফলে মে মাস পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯১ টাকা। পরে জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ আরও ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৩ টাকা যুক্ত হওয়ায় মোট বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৮ লাখ ১ হাজার ১৭৪ টাকা।
সমিতির দাবি, মে মাসের পর থেকে ‘আমজাদ গং’-এর গঠিত বর্তমান কমিটিই গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিল আদায় বা বকেয়া নিয়ে ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কোনো বাস্তবভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো তথ্য-প্রমাণ বা নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ছাড়াই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো শুধু মানহানিকর নয়, বরং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার অপচেষ্টা।
আলিনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া উচিত।
অন্যথায়, মিথ্যা তথ্য প্রচার, অপপ্রচার ও মানহানিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।