আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের কথা রয়েছে। সফরসূচিতে বাঁশখালী, হাটহাজারীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, পুনর্বাসন সহায়তা এবং নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৬ আগস্ট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেন জেলা প্রশাসক। ভিআইপি টার্মিনাল, রানওয়েসংলগ্ন এলাকা, নিরাপত্তাচত্বর ও প্রটোকল-সংক্রান্ত প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন নির্বিঘ্ন করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
প্রস্তুতির কোথাও যেন ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন জেলা প্রশাসক।
বিমানবন্দর থেকে হাটহাজারীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রথমে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যান তিনি। সেখানে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য যাতায়াত ও পরিদর্শনস্থলগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের জন্য নির্ধারিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সংস্কারকাজের অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন। এ কারণে বাঁশখালী ও হাটহাজারীর অনুষ্ঠানস্থল এবং সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাটহাজারী সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে মঞ্চ, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির আগের দিন বাঁশখালীতে দিনভর বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করেন জেলা প্রশাসক। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, অতিথিদের বসার স্থান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি।
এরপর বৃষ্টি ও কাদা উপেক্ষা করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন পুনর্বাসন ঘর দেখতে যান।
একটি জরাজীর্ণ ও আংশিক ভেঙে পড়া ঘরে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ওই পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন ঘরের চাবি পাবে।
বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মানও সরেজমিনে পরীক্ষা করেন জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি কক্ষ থাকবে। ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এর সঙ্গে থাকবে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো দল কাজ করছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।