• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মাঠে রেঞ্জ ডিআইজি প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে সিএমপিতে বাড়তি সতর্কতা, মাঠে নিরাপত্তা সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে বাঁশখালী-হাটহাজারী: প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কেন দিনরাত মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি? প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক জেলা পুলিশ ‘প্রার্থী দেবে না’ থেকে ইউটার্ন জামায়াতের, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটে নতুন সমীকরণ ৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন জুলাইযোদ্ধাদের জীবিকার চাকা ঘোরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার, পেলেন সিএনজি-রিকশা এক সফরে উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রাজনীতি—চট্টগ্রামে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: প্রস্তুত সাত ভেন্যু, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা জোরদার রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ

৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন

এমডি.রিমন আল ফাহাদ / ২ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন বাগেরহাটের রামপালের রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার বসবাস খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়। এমনকি ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতেও শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানার এই করুণ পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মর্মবেদনার সৃষ্টি করেছে। অসহায় এই নারী ও তার দুই সন্তানের নিরাপদ বসবাসের জন্য দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন দীর্ঘদিন দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। পরে বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে সেটি আর পূর্ণাঙ্গ ঘরে রূপ নেয়নি।

টিনের ছাউনি কিংবা চারপাশে বেড়া—কোনোটিই নেই। ফলে তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ওই অসম্পূর্ণ কাঠামোর নিচে দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, ‘রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।’

মহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করা গেলেই সেখানে একটি ঘর তৈরি করা সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে অন্তত দুই সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ জায়গা পাবেন রেহানা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের তৈরি একটি অসম্পূর্ণ কাঠামো। সেই কাঠামোকেই ঘর হিসেবে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়া না থাকায় সেটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

অসহায় এই পরিবারটির দুর্দশার অবসানে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা