• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মাঠে রেঞ্জ ডিআইজি প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে সিএমপিতে বাড়তি সতর্কতা, মাঠে নিরাপত্তা সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে বাঁশখালী-হাটহাজারী: প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কেন দিনরাত মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি? প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক জেলা পুলিশ ‘প্রার্থী দেবে না’ থেকে ইউটার্ন জামায়াতের, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় জোটে নতুন সমীকরণ ৫০০ টাকা ভাড়ার জন্য চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানার জীবন জুলাইযোদ্ধাদের জীবিকার চাকা ঘোরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার, পেলেন সিএনজি-রিকশা এক সফরে উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রাজনীতি—চট্টগ্রামে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: প্রস্তুত সাত ভেন্যু, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা জোরদার রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ

জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের

সাদাফ মাহমুদ / ৩ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের

‘সংস্কার নয়, হস্তান্তর’—কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা দলটির

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, সরকারের এ উদ্যোগ সংস্কারের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাত বেসরকারি হাতে হস্তান্তরের পথ তৈরি করবে এবং এর ফলে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (৮ আগস্ট) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। দলটি জানায়, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত দাবি করে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া আরও এগিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যেই বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলটির।

জামায়াতের ভাষ্য, বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিপণনের সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতা বাড়ার পরিবর্তে বাজার কয়েকটি নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন এবং বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণসুবিধার প্রয়োজন হয়। দলটির দাবি, দেশে এ ধরনের সক্ষমতা রয়েছে হাতেগোনা ৩-৪টি শিল্পগোষ্ঠীর।

বিপিসিকে ‘অদক্ষ’ ও ‘লোকসানি’ হিসেবে দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে জামায়াত। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

জ্বালানি সংকটকে অজুহাত করার অভিযোগ

চলমান জ্বালানি সংকটকে বেসরকারিকরণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে জামায়াত।

দলটি গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

জ্বালানি তেলকে দেশের প্রতিরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বিমান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জামায়াত।

দলটির মতে, জ্বালানি খাত বেসরকারি হাতে চলে গেলে যুদ্ধ বা বড় ধরনের দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের আইনগত সুরক্ষা খর্ব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। যারা বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করবেন, তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দলটি।

সরকারের কাছে সাত প্রশ্ন

প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের কাছে সাতটি প্রশ্নও তুলে ধরে জামায়াত। এর মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের কোনো খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কি না, থাকলে সেটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে কি না এবং কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া কোন কোন কোম্পানি এ বিষয়ে আবেদন বা প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হবে কি না—এ প্রশ্নও তুলেছে দলটি।

বেসরকারি আমদানিকারকরা বাজারে এলে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম কে নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), নাকি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সে বিষয়েও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে জামায়াত।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মুক্তবাজার অর্থনীতি কিংবা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধী নয়। তবে জবাবদিহিহীন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় খাত বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করছে তারা।

জামায়াতের ছয় দফা দাবি

জ্বালানি তেল খাত নিয়ে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দাবিগুলো হলো—

  • পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার সব উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
  • খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করতে হবে এবং জনসাধারণের মতামতের জন্য কমপক্ষে ৬০ দিন সময় দিতে হবে।
  • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করতে হবে। সেখানে বিরোধী দল, ক্যাব, সিপিডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক ফেডারেশন ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের মতামত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
  • বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কার করতে হবে। এর মধ্যে স্বাধীন নিরীক্ষা, বোর্ডে পেশাদার নিয়োগ, ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি তিন মাসে আমদানি মূল্য ও পরিমাণের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
  • জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনগত সুরক্ষা খর্ব করার সব সুপারিশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা