চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোববারের (৯ আগস্ট) সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৮ আগস্ট) ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজ নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সহায়তা বিতরণ। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি এবং পরে সড়কপথে হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। হেলিপ্যাডের পাশাপাশি সংলগ্ন সড়কের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন জেলা প্রশাসক।
পরে তিনি পরিদর্শন করেন আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে হাটহাজারী সরকারি কলেজসংলগ্ন মাঠও রয়েছে। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া বাঁশখালী ও হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে নবনির্মিত ঘর হস্তান্তরসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোও পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রতিটি ভেন্যু পরিদর্শন করে প্রস্তুতির বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফর সফল ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।